অনলাইন ডেস্কঃ
জাতীয় ফুল ‘শাপলা’কে দলের প্রতীক হিসেবে পেতে এনসিপি এখন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। শীঘ্রই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে এই ইস্যুটির মিমাংসা করা বলে জানিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতারা।
এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ ছাড়া অন্য কোনো মার্কা গ্রহণ করবে না। একই সঙ্গে তারা আরও জানিয়েছে, শাপলা মার্কা না পেলে তারা রাজপথে ও আদালতে লড়াই করবে।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, প্রতীক বরাদ্দে আইনগতভাবে কোনো বাধা নেই। ইসি—এর সঙ্গে আগের কয়েকটি বৈঠকে শাপলা বরাদ্দের আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল বলেও তারা দাবি করে। এমনকি ইসি শাপলাকে প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথাও জানিয়েছিল, কিন্তু পরে “একটি প্রভাবশালী সংস্থার” বাধার কারণে ইসি সেই অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসে—এটিকে এনসিপি ‘ফ্যাসিস্ট আমলের পুরনো গেম’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি এবং ইসির মধ্যে আভাসপূর্ণ টানাপোড়েন বেড়েছে। ২২ জুন দল নিবন্ধনের আবেদন করার সময় শাপলার পাশাপাশি বিকল্প প্রতীকের তালিকায় ‘কলম’ অথবা ‘মোবাইল’ও উল্লেখ করেছিল এনসিপি। কিন্তু ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শাপলা ইস্যু প্রকাশ্য ঝুঁকিতে উঠে আসে; এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বৈঠকে দলটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। পরে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও একই সুরে কথা বলেছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বুধবার ইসি কার্যালয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে দাবি করা হয়, জাতীয় প্রতীকের চারটি স্বতন্ত্র উপাদানের মধ্যে শাপলা একটি এবং অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে ‘ধানের শীষ’ বিএনপির কাছে, ‘তারা’ জেএসডির কাছে বরাদ্দ রাখার যুক্তিও এনসিপি অস্বীকার করে। তারা বলছে—জাতীয় ফুল হওয়া শাপলাকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে এবং আইনী কোনো বাধাই নেই।
এইসব অভিযোগের জবাবে ইসি সূত্র বলেছে, ইসির ১১৫টি প্রতীকের তালিকায় শাপলা নেই এবং নিয়মে রাজনৈতিক দলকে নির্ধারিত তালিকার মধ্য থেকেই প্রতীক নিতে হবে; ফলে এনসিপিকে বিকল্প নিতে হবে।
এদিকে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের এই বক্তব্যে এনসিপি নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতা বলেন, “বর্তমান ইসি বাইরে স্বাধীনতার কথা বললেও তারা নির্দিষ্ট একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করি। পদ–পদবির লোভে তারা পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে।”
দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “আমি আশা করি ইসি বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে। তারা শেষ পর্যন্ত শাপলা বরাদ্দ দেবে। তবে যদি তা না হয়, আমাদের সামনে লড়াই ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। রাজপথে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।” দলের আরো এক শীর্ষ নেতা বলেন, “শাপলা পাওয়া বা না পাওয়া—এটি আমাদের টিকে থাকার অগ্নিপরীক্ষা।”
এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন কি বাস্তবতা-ভিত্তিক সমাধান দেয় নাকি এই ইস্যু আরও গাঢ় রাজনৈতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত করে।
ষুত্র: যুগান্তর
