নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২০১৫ সালে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ যাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হকসহ ৩ জনের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। কুমিল্লার সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা সোমবার (১১ নভেম্বর) মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
সাবেক আইজিপি ছাড়া বাকি দুজন হলেন যুগ্ম সচিব এ কে এম জি কিবরিয়া মজুমদার ও মেহেরপুর ওলামা লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সেলিম।
এর আগে গত শনিবার দুপুরের দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তায় সাবেক আইজিপি শহীদুল হকসহ ৩ জনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাদের ওই আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ লোকজন শহীদুল হকের উপর হামলে পড়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করে।
শুনানি শেষে কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু সাংবাদিকদের জানান, মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর আলম সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব এ কে এম জি কিবরিয়া মজুমদার ও জহিরুল ইসলাম সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দশ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত তাদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২০১৫ সালে ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় ঘুমন্ত ৮ যাত্রী নিহত হন। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করে চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন পুলিশ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১১ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় কুমিল্লার আদালতে পাল্টা মামলার আবেদন করেন নাশকতা কবলিত ওই বাসটির মালিক চৌদ্দগ্রামের আবুল খায়ের। আদালতের আদেশে পরে চৌদ্দগ্রাম থানায় এফআইআর করা হয়। এ মামলায় সাবেক রেলপথমন্ত্রী ও চৌদ্দগ্রামের সাবেক এমপি মুজিবুল হক, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, কুমিল্লার তৎকালীন পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তীসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০ জনসহ ১৯০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দেন। এ মামলায় সোমবার শহীদুল হকসহ ৩ জনকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি এ টি এম আক্তার উজ্জামান বলেন, এ মামলায় শহীদুল হক এজাহারভুক্ত আসামি। তবে কিবরিয়া মজুমদারের নাম এজাহারে না থাকলেও তার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তাই তাকে এ মামলায় শোন এরেষ্ট দেখানো হয়েছে।
