অনলাইন ডেস্কঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান “অপারেশন ডেভিল হান্ট”-এ গ্রেপ্তার হয়েছেন এক অটোরিকশা চালক। নাম সাকিব, যিনি প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু আজ তিনি শিরোনামে—একজন রাজনৈতিক মামলার আসামি হিসেবে! সাকিবের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন হতভম্ব।
তিনি বলছেন, “আমার স্বামী শুধু রিকশা চালায়। প্রতিদিন সকালে বের হয়, রাতে ফিরে আসে। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে নেই। কিন্তু পুলিশ হঠাৎ এসে বলল, তার নামে অভিযোগ আছে, থানায় যেতে হবে। এরপর দেখি, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে!”
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাকিবকে তুলে নিয়ে যায় দুর্গাপুর থানা পুলিশ। তার স্ত্রী ও পরিবারের দাবি, কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট বা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।
সাকিবের বাবা লুতফর রহমানের জীবনও সংগ্রামের। তিনি বলেন, “আমি মানুষের কাছে ভিক্ষা করে সংসার চালাই। আমার ছেলে যা আয় করে, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। সে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। তাহলে তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো?”
সাকিবের গ্রেপ্তার নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত, তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু একজন সাধারণ রিকশাচালককে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানো হলো কেন?
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দুরুল হুদা বলেন, “যাকে ধরা হয়েছে, সে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এখন বাঁচার জন্য নিজেকে নির্দোষ বলছে।”
সাকিবের পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই। তাহলে কি শুধু সাধারণ মানুষ হওয়াই তার অপরাধ? পুলিশি অভিযানে সত্যিই অপরাধীরা ধরা পড়ছে, নাকি নিরপরাধ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে?
আইনের চোখে সবাই সমান হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে কি তাই? সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রশ্নটাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে—”অপারেশন ডেভিল হান্ট কি অপরাধীদের ধরছে, নাকি সাধারণদের ফাঁসাচ্ছে?”
