অনলাইন ডেস্কঃ
মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট, শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অস্কার আরিয়াসের মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি এক ই-মেইল বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভিসা বাতিলের বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে বলে কোস্টারিকার রাজধানী সান হোসেতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসির।
কেবল আরিয়াসই নন, কোস্টারিকার জাতীয় পরিষদের তিন সদস্যের ভিসাও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তিনজনই ৫জি উন্নয়নে চীনা কোম্পানিকে অংশ না নিতে দেয়ার প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।
অস্কার আরিয়াস জানিয়েছেন, তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। কোস্টারিকার দুইবারের এই প্রেসিডেন্ট ১৯৮৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। মধ্য-আমেরিকায় গৃহযুদ্ধের অবসানে তার প্রচেষ্টার জন্য নোবেল কর্তৃপক্ষ তাকে এই স্বীকৃতি দেয়।
কোস্টারিকার সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘মঙ্গলবার সকালের দিকে তার মার্কিন পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসা বাতিল করার তথ্য ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’
প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করার কয়েক সপ্তাহ পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে ভিসা বাতিলের এ খবর দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র কেন তার ভিসা বাতিল করেছে তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
মার্কিন ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে ৮৪ বছর বয়সী অস্কার আরিয়াস বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রের একটি দৃষ্টান্ত। কিন্তু আজ দেশটির গণতন্ত্রে স্বৈরাচারের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’
মধ্য আমেরিকায় সংঘাত থামাতে অনন্য ভূমিকার জন্য কোস্টারিকার এ সাবেক প্রেসিডেন্টকে ১৯৮৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল। ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই কর্মের সাজাস্বরূপও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন এই নোবেল জয়ী।
প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আরিয়াস ২০০৭ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এক চীন নীতির পক্ষে কোস্টারিকাকে নিয়ে যান। তিনি ধারণা করছেন চীনর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনের কারণে এমনটি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির এখনকার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো শাভেজের শাভেজ কোস্টারিকায় ৫জি উন্নয়নে কোনো চীনা কোম্পানিকে অংশ নিতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে ওয়াশিংটন বেশ খুশি দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ শাভেজের এই সম্পর্কের তুমুল বিরোধী আরিয়াস। এ নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেছিলেন, ‘ছোট একটি দেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কথা না মানা কখনোই সহজ বিষয় নয়, তাও আবার যখন দেশটির এখনকার প্রেসিডেন্ট অনেকটা রোমান সম্রাটের মতো আচরণ করছেন, বাকি দুনিয়াকে বলছেন- কী করতে হবে। আমার সরকার কখনোই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নির্দেশ নিতো না, আমরা ব্যানানা রিপাবলিকা ছিলাম না।’
