
অনলাইন ডেস্কঃ
চলতি বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করে তখন এক প্রকার গোপনীয়ভাবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একটি চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম না প্রকাশের শর্তে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- চীনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে ভারতের মনোভাব পরীক্ষার করার জন্যই শি জিনপিং ওই চিঠিটি লিখেছিলেন। শুরুতে প্রেসিডেন্ট মুর্মুর কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়। পরবর্তী চিঠির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অবহিত করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই চিঠিতে শি জিনপিং বেইজিংয়ের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে এমন যে কোনো সম্ভাব্য মার্কিন-ভারত চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চিঠিতে চীনের প্রেসিডেন্ট একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তার নামও প্রকাশ করেন। যিনি বেইজিংয়ে কার্যক্রমকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের সঙ্গে গুরুত্বসহকারে যোগাযোগ রক্ষা করেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের শুল্কারোপ হুমকি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আঞ্চলিকভাবে বেশ চাপে পড়েছিল নয়াদিল্লি। গত এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহতদের ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে হামলা করে ভারত। এরপর দুই দেশ চারদিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কে ভারতীয় অর্থনীতি চাপে পড়ার পর নয়াদিল্লি ও বেইজিং ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পরে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ মেটাতে আলোচনা জোরদার করে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদি সাত বছর পর প্রথমবার চীন সফরে যাচ্ছেন।
সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে কয়েকটি উদ্যোগ ইতোমধ্যেই গৃহীত হয়েছে। আগামী মাস থেকে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল চালু হবে। এছাড়া চীন ইউরিয়া সরবরাহ সহজ করেছে এবং ভারত চীনা নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদানি গ্রুপ চীনের বৈদ্যুতিক যান নির্মাতা বিওয়াইডির সঙ্গে অংশীদারিত্বের আলোচনা করেছে। একইসঙ্গে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং জেএসডব্লিউ গ্রুপও চীনা সংস্থাগুলোর সঙ্গে গোপন চুক্তির পথে অগ্রসর হচ্ছে।